Sunday, December 13, 2020

সূরা আল-ফাতিহা আরবি এবং বাংলা অর্থ

 

 ۝‎
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
  1. ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ رَبِّ ٱلْعَالَمِينَ ۝
    আলহামদুলিল্লা-হি রাব্বিল আ-লামীন।
    সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যে।
  2. ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ۝
    আর রাহমা-নির রাহীম।
    অনন্ত দয়াময়, অতীব দয়ালু।
  3. مَالِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ۝
    মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
    প্রতিফল দিবসের মালিক।
  4. إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ۝
    ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কানাছতা’ঈন।
    আমরা শুধু আপনারই দাসত্ব করি এবং শুধু আপনারই নিকট সাহায্য কামনা করি।
  5. ٱهْدِنَا ٱلصِّرَاطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ۝
    ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম।
    আমাদের সরল পথনির্দেশ দান করুন।
  6. صِرَاطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ۝
    সিরা-তাল্লাযীনা আন’আম তা’আলাইহিম।
    তাদের পথে, যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন
  7. غَيۡرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا اَ۬لضَّآلِّينَ ص۝
    গাইরিল মাগদূ বি’আলাইহীম ওয়ালাদ্দাল্লীন।
    এবং তাদের পথে নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার ও পথভ্রষ্ট



নামকরণ 

ফাতিহা শব্দটি আরবি "ফাতহুন" শব্দজাত যার অর্থ "উন্মুক্তকরণ"। এ সূরার বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এর এই নামকরণ করা হয়েছে। যার সাহায্যে কোন বিষয়, গ্রন্থ বা জিনিসের উদ্বোধন করা হয় তাকে 'ফাতিহা' বলা হয়। অন্য কথায় বলা যায়, এ শব্দটি ভূমিকা এবং বক্তব্য শুরু করার অর্থ প্রকাশ করে।

হাদিসে এ সুরার আরও চারটি নাম পাওয়া যায় যার একটি হলো উম্মুল। তবে ইসলািমী লেখালিখিতে এ সুরার অন্ততঃ ২৩ অভিধা রয়েছে। একে সাবআ মাসানী বা বহুল পঠিত সাত আয়াত বলা হয়।

এই সূরাটির অন্য কয়েকটি নাম রয়েছে। যেমন- ফাতিহাতুল কিতাব, উম্মুল কিতাব, সূরাতুল-হামদ, সূরাতুস-সালাত, আস্‌-সাব্‌'য়ুল মাসানী।


নাযিল হওয়ার সময়-কাল 

এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের একেবারেই প্রথম যুগের সূরা। বরং হাদীসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটিই মুহাম্মাদের (সা.) ওপর নাযিলকৃত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সূরা। এর আগে মাত্র বিচ্ছিন্ন কিছু আয়াত নাযিল হয়েছিল। সেগুলো সূরা 'আলাক্ব', 'মুয্‌যাম্‌মিল' ও 'মুদ্‌দাস্‌সির' ইত্যাদিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।


বৈশিষ্ট্য 

এই সূরাটি কোরআনের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সূরা। প্রথমতঃ এ সূরা দ্বারাই পবিত্র কোরাআন আরম্ভ হয়েছে এবং এ সূরা দিয়েই সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত স্বলাত আরম্ভ হয়। যে সকল সাহাবী সূরা আল-ফাতিহা সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন, তাদের সে বক্তব্যের অর্থ বোধহয় এই যে, পরিপূর্ণ সূরারূপে এর আগে আর কোন সূরা নাযিল হয়নি। এ জন্যই এ সূরার নাম 'ফাতিহাতুল-কিতাব' বা কোরআনের উপক্রমণিকা রাখা হয়েছে।

'সূরা আল্-ফাতিহা' এদিক দিয়ে সমগ্র কোরআনের সার-সংক্ষেপ। এ সূরায় সমগ্র কোরআনের সারমর্ম সংক্ষিপ্ত আকারে বলে দেয়া হয়েছে। কোরআনের অবশিষ্ট সূরাগুলো প্রকারান্তরে সূরা ফাতিহারই বিস্তৃত ব্যাখ্যা। তাই এ সূরাকে সহীহ হাদীসে 'উম্মুল কিতাব', 'উম্মুল কুরআন', 'কোরানে আযীম' বলেও অভিহিত করা হয়েছে।[৩] হযরত রসূলে কারীম এরশাদ করেছেন যে -

"যার হাতে আমার জীবন-মরণ, আমি তাঁর শপথ করে বলছি, সূরা আল-ফাতিহার দৃষ্টান্ত তাওরাতইনজীলযাবুর প্রভৃতি অন্য আসমানী কিতাবে তো নেই-ই, এমনকি পবিত্র কোরআনেও এর দ্বিতীয় নেই।"

ইমাম তিরমিযী আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলে কারীম আরো বলেছেন যে -

"সূরায়ে ফাতিহা প্রত্যেক রোগের ঔষধবিশেষ।"

No comments:

Post a Comment

সূরা আল-ফাতিহা আরবি এবং বাংলা অর্থ

   ۝‎ ‎ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ رَبِّ ٱلْعَالَمِينَ  ۝ ‎ আলহামদুলিল্লা-হি রাব্ব...